চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পূর্বে

চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পূর্বে যা করবেন

শারীরিক সমস্যা হলে আমরা চিকিৎসকের কাছে যাই। কিন্তু অনেকেই সমস্যার কথা সঠিকভাবে বুঝিয়ে বলতে পারেন না, আবার কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ কথাটিই বলতে ভুলে যান। অল্প সময়ের মধ্যে চিকিৎসককে রোগীর সমস্যা বুঝে নিতে হয়। তাই যাওয়ার আগে একটু প্রস্তুতি নিলে রোগী ও চিকিৎসক, দুজনেরই সুবিধা হয়।

সংক্ষেপে মনে রাখুন: মূল সমস্যাগুলো পয়েন্ট করে কাগজে গুছিয়ে লিখুন এবং পূর্বের সব প্রেসক্রিপশন ও রিপোর্ট তারিখ অনুযায়ী সাজিয়ে সঙ্গে নিন।
সমস্যার কথা কেন গুছিয়ে বলা জরুরি?

চিকিৎসকের হাতে সময় সীমিত। এই অল্প সময়ে সবকিছু মনে রেখে বলা সহজ নয়। ফলে অনেক সময় প্রধান সমস্যাটিই বাদ পড়ে যায়।

সমস্যার কথা স্পষ্টভাবে জানালে চিকিৎসক দ্রুত রোগের ধরন বুঝতে পারেন এবং সঠিক পরামর্শ দেওয়া সহজ হয়।

মূল সমস্যাগুলো কীভাবে লিখবেন?

যাওয়ার আগে মূল সমস্যাগুলো পয়েন্ট করে কাগজে গুছিয়ে লিখুন। যেমন:

  • সবচেয়ে বেশি কোন সমস্যাটি হচ্ছে
  • সমস্যাটি কবে থেকে শুরু হয়েছে
  • কখন বাড়ে বা কমে
  • চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করতে চান এমন প্রশ্নগুলো
সঙ্গে কী কী নেবেন?

যাওয়ার সময় পূর্বের সকল প্রেসক্রিপশন ও রিপোর্ট তারিখ অনুযায়ী সাজিয়ে সাথে নিন।

  • আগের প্রেসক্রিপশনগুলো
  • সব পরীক্ষার রিপোর্ট
  • নিজের হাতে লেখা সমস্যার তালিকা
  • চলমান ওষুধের নাম বা ওষুধের পাতা/বক্স
  • পরিচয়পত্র ও আগের সিরিয়াল বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট কার্ড (থাকলে)
চিকিৎসককে আর কোন তথ্যগুলো জানাবেন?

মূল সমস্যার পাশাপাশি নিচের তথ্যগুলোও চিকিৎসকের জানা দরকার। সংকোচ না করে খোলামেলা বলুন।

  • বর্তমানে যেসব ওষুধ খাচ্ছেন (ভিটামিন ও হার্বাল ওষুধসহ)
  • কোনো ওষুধ বা খাবারে অ্যালার্জি আছে কি না
  • আগে কোনো অপারেশন হয়ে থাকলে বা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে তার তথ্য
  • পরিবারে কারও বংশগত রোগ থাকলে তার তথ্য
  • নারীদের ক্ষেত্রে (প্রযোজ্য হলে) পিরিয়ডের সর্বশেষ তারিখ এবং গর্ভধারণ সংক্রান্ত আগের ইতিহাস
চেম্বারে গিয়ে কী করবেন?
  • নির্ধারিত সময়ের একটু আগে পৌঁছান, যাতে তাড়াহুড়ো না হয়
  • প্রয়োজন মনে করলে পরিবারের একজনকে সঙ্গে নিন
  • লেখা তালিকা দেখে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাটি আগে বলুন
  • কোনো কথা বুঝতে না পারলে আবার জিজ্ঞেস করুন
  • কোনো তথ্য লুকাবেন না, সঠিক তথ্যই সঠিক চিকিৎসার ভিত্তি
চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার পর
  • পরামর্শ ও ওষুধের নিয়ম লিখে নিন
  • ওষুধ কখন, কতদিন ও কীভাবে খাবেন তা জেনে নিন
  • নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করবেন না বা মাত্রা বদলাবেন না
  • পরবর্তী সাক্ষাতের তারিখ জেনে নিন এবং নতুন প্রেসক্রিপশন ও রিপোর্ট ফাইলে সংরক্ষণ করুন
  • নতুন কোনো উপসর্গ দেখা দিলে বা অবস্থার অবনতি হলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন
এতে কী কী সুবিধা হয়?
  • কোনো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা বলতে ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে
  • চিকিৎসক অল্প সময়ে রোগীর অবস্থা বুঝতে পারেন
  • আগের চিকিৎসার ইতিহাস দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়
  • রোগী ও চিকিৎসক উভয়েরই সময় বাঁচে

এই লেখাটি সাধারণ সচেতনতার জন্য। জরুরি অবস্থায় বা যেকোনো শারীরিক সমস্যায় অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ডা. শাহিদা আক্তার রাখী
অবস এন্ড গাইনী বিশেষজ্ঞ ও সার্জন